প্রযুক্তি বাংলা

থাকবো না ক বদ্ধ ঘরে

প্রযুক্তি

Ticonderoga Class ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ

Ticonderoga Class ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ

টিকন্ডারোগা ক্লাস ক্রুজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ । এই শ্রেনীর ক্রুজার যুদ্ধজাহাজগুলো অধিক অস্ত্র বহন করতে পারে এবং এটি যে কোন নৌবাহিনীর জন্য একটি মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে ।
এটি মূলত একটি গাইডেড মিসাইল ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ ।
.
.
এর নির্মান পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে এবং ১৯৮৩ সালে প্রথম টিকন্ডারোগা ক্লাস ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ সার্ভিসে আসে ।
এই রকম মোট ২৭টি ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ নির্মান করা হয়েছিল এর মধ্যে ৫টি অবসরে পাঠানো হয়েছে বাকি ২২টি ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তে সার্ভিস দিচ্ছে ।
.
এই ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করতে ৩৬৪ জন নৌ সেনা থাকে ।

টিকন্ডারোগা ক্লাস একটি গাইডেড মিসাইল ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ । যাতে রয়েছে অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম , রাডার ও সেন্সর ।
এতে উল্লেখযোগ্যভাবে যা রয়েছে :-
.
১টি AN/SPY-1 মাল্টিফাংশন রাডার যা ৩২২ কিঃমিঃ এর মধ্যে বিভিন্ন টার্গেট শনাক্ত করতে পারে ।
১টি AN/SPS-49 এয়ার সার্চ রাডার যা ৪৭৪ কিঃমিঃ মধ্যে শত্রুবিমান শনাক্ত করতে পারে।
.
১টি AN/SPG-62 ফায়ার কন্ট্রোল রাডার ।
১টি AN/SLQ-32 ইলেক্ট্রনিক রাডার জ্যামার ।
১টি AN/SLQ-25 আপকামিং টর্পেডো ধ্বংসকারী সিস্টেম ।
এছাড়াও এতে আরো অনেক প্রযুক্তি , মিসাইল জ্যামার , উন্নত প্যাসিভ ও অ্যাক্টিভ সোনার সিস্টেম রয়েছে যা শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত করতে পারে।

বলে রাখা ভালো এরকম ক্রুজার যুদ্ধজাহাজগুলো বিশ্বের যে কোন নৌবাহিনীর আতঙ্কের কারন হতে পারে । এই ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ একাই একটি দেশের ছোটখাটো নৌবাহিনী কে পরাজিত করতে পারে ।
এটি একাধিক মিশন একসাথে পরিচালনা করতে সক্ষম ।
.
এরকম প্রতিটি টিকন্ডারোগা ক্লাস ক্রুজার যুদ্ধজাহাজের দাম ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ।
.
.
তবে ২০৩০ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এই ক্রুজার যুদ্ধজাহাজগুলো কে আরো আধুনিক ও এজিস ক্লাসের ডেস্ট্রয়ার Arleigh Burke Flight III ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ দ্বারা পরিবর্তন করা শুরু করবে ।


একনজরে টিকন্ডারোগা ক্লাস যুদ্ধজাহাজের বিবরন :-
.

টাইপ :- গাইডেড মিসাইল ক্রুজার যুদ্ধজাহাজ

ক্রু :- ৩৬৪ জন ।

.

ওজন :- ৯৯৬০ টন

দৈর্ঘ্য :- ১৭২.৮ মিটার

প্রস্থ :- ১৬.৮ মিটার

উচ্চতা :- ৯.৫ মিটার

.

গতি :- ৩০ নট

রেঞ্জ :- ১১০০০ কিঃমিঃ

উৎপত্তি_স্থল :- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

সার্ভিস :- ১৯৮৩ সালে

.
.
//\//\ অস্ত্রশস্ত্র //\//\
.
১টি MK-45 ১২৭ মিলিমিটার মেইন নেভাল গান । রেঞ্জ ২৪ কিঃমিঃ ।
.
২টি Phalanx CIWS যা ৬ কিঃমিঃ এর মধ্যে শত্রুর ক্রুজ মিসাইল , যুদ্ধবিমান ও মিসাইল বোট ধ্বংস করতে পারে ।
.
৪-৮টি ৫০ ক্যালিবারের ভারী মেশিনগান ।
.
২টি MK-41 ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেম
.
এরেই মধ্যে থাকে ৬৮টি SM-2 MR বিমান বিধ্বংসী মিসাইল । এই মিসাইগুলো ১৬৭ কিঃমিঃ এর মধ্যে শত্রুর যুদ্ধবিমান , ক্রুজ মিসাইল , হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে পারে ।
.
এছাড়া এতে আরো থাকে ২০টি Tomahawk এন্টিশীপ ক্রুজ মিসাইল যা ১৭০০ কিঃমিঃ দূরে থাকা শত্রুর যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করতে পারে ।
.
২০টি ASROC অ্যান্টি সাবমেরিন রকেট । রেঞ্জ ২২ কিঃমিঃ ।
.
৮টি Harpoon এন্টিশীপ ক্রুজ মিসাইল যা ২৮০ কিঃমিঃ শত্রুর যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম ।
.
২টি ৩২৪ মিলিমিটারের টর্পেডো টিউব যাতে MK-46 টর্পেডো থাকে । রেঞ্জ ১৪ কিঃমিঃ ।
.
এছাড়া এতে ২টি SH-60B Seahawk অ্যান্টি সাবমেরিন হেলিকপ্টার থাকে ।

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *