Death Squad

Death Squad
.
.
ডেথ স্কোয়াড বা বাংলায় যাকে বলা হয় খুনী দল । ইসরাইল রাষ্ট্রটি অনেকটা টিকে আছে মূলত তাদের এই ডেথ স্কোয়াড উপর নির্ভর করে ।
আসলে এখানে একা ইসরাইলের দোষ দিয়ে লাভ নেই । বরং পৃথিবীর প্রতিটা দেশেই সে দেশের সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানের স্বার্থ হাসিলের জন্য ডেথ স্কোয়াড গঠন করা হয় ।
.
.
হত্যা , গুম , আটক করে নির্মম নির্যাতন করা , সমাজে হিংসা ছড়ানো , টার্গেটকৃত ব্যাক্তির উপর নজরদারি , ধর্ষন কিংবা গনধর্ষনের মত যত সব জঘন্য অপরাধ রয়েছে তা সবেই করতে পারে এই ডেথ স্কোয়াড ।


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ডেথ স্কোয়াডের গঠন ও কার্যক্রম একেক রকম তবে পৃথিবীর সব দেশের ডেথ স্কোয়াডের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একোই থাকে ।
আসলে এই ডেথ স্কোয়াডের উৎপত্তিটা সেই প্রাচীনকালে থেকেই মানবসভ্যতা তে চলে আসছে ।
.
তবে ১৯ শতকের শুরু রাশিয়ার গৃহযুদ্ধে বলশেভিক বিপ্লবের পর পরেই ডেথ স্কোয়াড ভিন্ন রূপ পায় ।
বলশেভিক বিপ্লবের পর তৎকালীন সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্টালিনের নির্দেশে ডেথ স্কোয়াড NKVD প্রায় ২ কোটি মানুষ হত্যা করে ।
.
বলা হয় ১৯৫৩ সালের আগ পর্যন্ত তিনি রাশিয়া তে অসংখ্য ভিন্ন মতাদর্শী মানুষ কে হত্যার নির্দেশ দেন ।


ব্যাস এরপর থেকেই যেন পৃথিবী ব্যাপী ডেথ স্কোয়াড শব্দটি ছড়িয়ে পড়ে । বিশ্বে আধুনিক প্রতিটি দেশ নিজেদের সুরক্ষা ও শত্রুদেশের আটক করা ব্যাক্তিদের উপর নির্মম অত্যাচার চালাতেই ডেথ স্কোয়াড গঠন করে ।
.
.
একটি দেশের ডেথ স্কোয়াড গঠিত হয় মূলত সেই দেশের স্থানীয় মাফিয়া বা সন্ত্রাসী সদস্য , গোয়েন্দা এজেন্ট , সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিয়ে ।
কোন ব্যাক্তি কে কিভাবে হত্যা করা হবে তা এক মাস আগে থেকেই আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হয় ।
.
এরপর কেবল ওই দেশের প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্টের অনুমতি পেলেই টার্গেট করা ব্যাক্তি গুম , আটকে রেখে নির্যাতন কিংবা মেরে ফেলা হয় ।
.
.
বিশ্বের বিষফোড়া ইসরাইলের কেবল হত্যার উদ্দেশ্য রয়েছে বিশেষায়িত এলিট বাহিনী কিডন ও সায়েতেত-১৩ ।
.
আমেরিকার বিখ্যাত গোয়েন্দা বিষয়ের সাংবাদিক জন বার্গম্যান এক আর্টিকেলে লিখেছেন
“ইসরাইল এমন একটি দেশ যারা কখনোই চুপচাপ বসে থেকে শত্রু কি করছে এই ধরনের তামাশা দেখেনি বরং তারা কঠোরভাবে শত্রুদের উপর আঘাত হেনেছে ।
.
৬০ এর দশকে ইসরাইল বুঝতে পেরেছিলো পরবর্তীতে তারা যদি আরব রাষ্ট্রগুলো মূল গঠনতন্ত্র ও ইসলামিক আদর্শ ধ্বংস করতে না পারে তাহলে তাদের ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব চরম হুমকির মুখে পড়বে । এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রন নিতেও ইসরাইল কে গোপনে সুযোগ সুবিধা দিত ।
.
.
ফলাফল আরব বসন্তের সৃষ্টি , মধ্যপ্রাচ্যর দেশগুলো তে ক্রমাগত হিংসা ছড়িয়ে দেয়া ও যুদ্ধ কে প্রধান হাতিয়ার বানিয়ে লাখ লাখ নিরহ মানুষ হত্যা করা ” ।
.
এছাড়া জন বার্গম্যান তার আর্টিকেলে উল্লেখ করেন আজ পর্যন্ত ইসরাইল তার ডেথ স্কোয়াডের দ্বারা বিভিন্ন দেশে প্রায় ২৩০০০ গুপ্তহত্যা পরিচালনা করেছে ।
.
.
আসলে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি আধুনিক সমাজে ডেথ স্কোয়াডের অস্তিত্ব রয়েছে । কোন দেশ ডেথ স্কোয়াড গঠন করেছে কেবল বহিঃশত্রুদের গোপনে হত্যা করতে । আবার কোন দেশে ডেথ স্কোয়াড গঠন হয়েছে কেবল কোন নির্দিষ্ট একজন ব্যাক্তির স্বার্থের জন্য ।
.
ডেথ স্কোয়াডের সদস্যরা কখনো শান্তি আলোচনা করে না । তাদের নীতিই আলাদা তা হচ্ছে কেবলেই রাষ্ট্রপ্রধানের নির্দেষ অনুসারে হত্যা , গুম ও নির্যাতন পরিচালনা করা ।
.
.
.
এখন অনেকে জানতে চাইবেন বাংলাদেশে কি ডেথ স্কোয়াডের অস্তিত্ব রয়েছে ?
উত্তর হচ্ছে হ্যা আছে এবং সেই ডেথ স্কোয়াড হচ্ছে রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা RAB ।
২০১৪ সালে বিশ্ব মানব অধিকার সংস্থা RAB এর বিরুদ্ধে গুম , হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে । যদিও RAB এসব দাবি বরাবরেই অস্বীকার করে আসছে ।
.
.
আসলে ডেথ স্কোয়াডের কার্যক্রম নিয়ে এক পোস্টে বুঝানো সম্ভব না আপনাদের । একটি দেশে যত বড় বড় অপরাধগুলো দেখবেন তার পেছনে কোন কোনভাবে ওই রাষ্ট্রের ডেথ স্কোয়াড বা খুনী দলের হাত রয়েছে ।

Post Author: admin

3 thoughts on “Death Squad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *