প্রযুক্তি বাংলা

থাকবো না ক বদ্ধ ঘরে

প্রযুক্তি

প্রজেক্ট রেইনবো

প্রজেক্ট রেইনবো
.
.
একটি যুদ্ধজাহাজ কে সমুদ্রে কিভাবে অদৃশ্য করে দেয়া যায় তা নিয়ে শুরু হয়েছিল প্রজেক্ট রেইনবো । এই প্রজেক্টের আরেক নাম ছিল ফিলাডেলফিয়া এক্সপেরিমেন্ট ।
.
.
১৯৪৩ সালের কথা তখন আমেরিকা ২য় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে লড়ছে । ঠিক এইসময়ে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করল এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে হবে যা শত্রুর ও জনসাধারনের চোখের সামনে অদৃশ্য করা যায় এবং এই অদৃশ্য যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ঘুনাক্ষরে টের না পায় শত্রুপক্ষ।
.
.
১৯৪৩ সালের ২৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এক আশ্চর্য্যজনক পরীক্ষা চালিয়েছিলো । এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে গোপন ১০টি প্রজেক্টের একটি ।
এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত ছিলেন বিখ্যাত পদার্থবিদ আইনস্টাইন , নিকোলা টেসলাও সহ আরো অনেক প্রচন্ড মেধাবী পদার্থবিদরা।


ফিলাডেলফিয়া পরীক্ষার জন্য ভার্জিনিয়ার নরফোক সমুদ্র বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের এলড্রিজ ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ কে বেছে নেয়া হয়েছিলো ।
.
ফিলাডেলফিয়া বা প্রজেক্ট রেনবো মূলত চালু হয়েছিলো আইনস্টাইনের “ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি” উপর ভিত্তি করে।
পুরো প্রজেক্ট রেইনবো পরিচালনা করার দায়িত্বে ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন রেনো ।
.
.
আইনস্টাইনের ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি তে বলা আছে যদি কোন স্থানে আলোকে বেধে ফেলা যায় এমন স্থানে যেখানে আলো ঢুকবেও আবার আলো বের হবে না । এমন হলে পৃথিবীর সময় কেও বেধে ফেলা যাবে এবং মহাকর্ষ বলও বেধে ফেলা যাবে একোই সাথে ।
.
এই পরীক্ষাতে বড় ইলেকক্ট্রিক্যাল জেনারেটর নির্দিষ্ট ১টি বস্তুর চারপাশ আলো কে বেধে ফেলা যায় তাহলে ওই বস্তুটি মানুষের চোখে অদৃশ্য করে দেয়া যাবে ।
.
.
প্রজেক্ট রেইনবো তে ১৯৪৩ সালের ২৮ অক্টোবর ও এর পরে আরো একবার এর পরীক্ষা চালায় আমেরিকার সরকার ।
.
আইনস্টাইনের সূত্র অনুসারে আমেরিকার এলড্রিজ যুদ্ধজাহাজের চারপাশে তৈরি করলেন ইলেকট্রনিক ক্যামোফ্লেজ । যুদ্ধজাহাজেটির চারপাশে ইলেকট্রোম্যাগনেটিভ ওয়েভ সৃষ্টি করলেন ।
.
.
ঠিক এরপরেই এলড্রিজ ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজটি সুবজ রং এর কুয়াশার মতো জাহাজটি কে ঘিরে ফেলল এবং সবার সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল !! :-O :-O
.
.
১৯৪৩ সালে এই যুদ্ধজাহাজ পরীক্ষাটি ছিল শুধু অদ্ভুত না একেবারেই আশ্চর্য্যজনক । এই ফিলাডেলফিয়া পরীক্ষার ফলে এলড্রিজ যুদ্ধজাহাজের ঠিক ১০ সেকেন্ড পর জাহাজটি কে আবার দৃশ্যমান করা হয় ।
.
.
কিন্তু এই পরীক্ষার ফলাফল ছিল খুবেই আশ্চর্য্যর বিষয় । কেননা এই যুদ্ধজাহাজের ভেতরে থাকা নাবিকরা তখন কেউই আর স্বাভাবিক ছিল না । কেউ বমির পর বমি করছিলো , কোন কোন নাবিকের চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো , কোন কোন নাবিক আবার একদম পাগল হয়ে গিয়েছিলো ।
.
আবার কোন কোন নাবিক অস্বাভাবিক ক্ষমতা অর্জন করেছিলো বলে শোনা যায় । যেমন কোন কোন নাবিক এই পরীক্ষার ফলে কোন কিছু ভেদ করে সহজেই প্রবেশ করতে পারতো ।
এই কথাটা অস্বাভাবিক ক্ষমতার কথা শুনে হাসতে হাসতে লুঙ্গি খুলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিলো আমার । 😀 😀
.
.
এছাড়া বাকি নাবিকরা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিল আবার কিছু নাবিকের মৃত্যু হয়েছিলো । এই প্রজেক্ট রেনবোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও নৌবাহিনী বরাবরেই অস্বীকার করে আসছে ও কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে চলছে । বিজ্ঞানী আইস্টাইন নিজেও এই পরীক্ষাতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন ।
.
.
.
যদি বলে আসলেই কি যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন অদৃশ্য করে দেয়া যায় কিনা তাহলে উত্তর হবে হ্যা একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে শুরু করে যেকোন যান্ত্রিক বস্তু কে অদৃশ্য করে দেয়া যায় বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের থিওরি অনুযায়ী কিন্তু ওই যুদ্ধজাহাজের বা যান্ত্রিক বস্তুটির ভেতরে থাকা নাবিকদের সাথে সব অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে থাকবে ।
মূলত এটা ছিল আইনস্টাইনের ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি ।
.
.
১৯৮৪ সালে ফিলাডেলফিয়া এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে প্রথম ও ১৯৯৪ সালে আরকেটি সিনেমা তৈরি করা হয় ।
.
.
এই প্রজেক্ট রেইনবো এর ব্যাপারটাই রহস্যজনক করে রেখেছে আমেরিকা । তবে জানা যায় এই পরীক্ষা যারা পরিচালনা করেছে ও বেচেঁ যাওয়া নাবিকদের স্মৃতি নষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যাতে তারা এই প্রজেক্টের ব্যাপারে কিছু মনে রাখতে না পারে ।

লেখক@ৈফারহান জোবান(গবেষক ও ইতিহাসবিদ)

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *