না বলেই ইতি(রোমান্টিক গল্প)মোঃ আরমান হোসেন

না বলেই ইতি
মোঃ আরমান হোসেন

আমি কোনো গল্পাকার নই যে সুন্দর সাবলীল শব্দ সাজিয়ে লিখে ফেলবো কালজয়ী কোনো গল্প। গল্পাকারের মতো বচন ভঙ্গিও নেই আমার, নেই তিলকে তাল বানিয়ে রসিকতা কিংবা বেদনার ঢেউ তুলে দেবার মতো শক্তি। যেটুকু আছে তা পুরোটাই অভাষী। নাহ, একেবারেই ভাষা নেই তানা। গল্পাকারের গল্প বলার মতো ভাষা নেই। তবুও কিছু কথা বলি,

পানিতে ভাসমান বস্ত দ্বারা ভ্রমণ। মানে নৌকা ভ্রমণ।এটা আসলে কোনো ভ্রমণ ছিল না। ছিল পরিকল্পিত যাত্রা।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে এসে পা রাখলাম আড়িয়াল খাঁ এর পাড়ে।
কিছু সময় আগেই চলে আসছি ঘাটে। বসে আছি সময় কাটতে। সময় শেষ হলো, যাত্রা শুরু।
আলুনী নদী উতালপাতাল উর্মিমালার নেয় দুলছে। দুলবে না কেনো? এযে পূর্ণ শ্রাবণে যৌবনের দিনগুলো। যৌবন তো সবের আছে। এসময় সবই একটু বেশিই বীর্যবান সবল থাকে।

এখন আর আগের মতো পালতোলা লাগে না। ইঞ্জিন চালিতো নৌকা অনায়াসে যাতায়াত করা যায়। যাইহোক যাত্রা শুরু। যাত্রা কালে মাঝি ভাই ঘাট ধরে চল্লো।
দ্বিতীয় ঘটের পাড়ে চমৎকার একটা বটবৃক্ষ আছে। খুব একটা জোয়ানমর্দ হয়েছে তাও না, আবার একেবারেই কম আছে তাও না। বৃক্ষের অনেকাংশে বাঁধা আছে লাল সালু।সালুর বিস্তারিত আমার জানা নেই।জানার ইচ্ছেও নেই। কে, কোন দরবেশ কি কারণে বাধছে তারাই জানেন।
আমি কোনো ব্যাপারে তেমন গভীর ছিলাম না, যা ছিলাম আড়িয়াল খাঁ নিয়ে। ছিলাম তার রাক্ষসী রূপ আর দয়া বান নিয়ে।। মগ্ন অবস্থায় চতুর্থ ঘাটটিও পার হয়ে আসলাম। পঞ্চম ঘাটে কিছু লোক মাঝির দৃষ্টি আক্রশন করলো। তখনই মাঝি হাল ঘোরালো। আমি কিছুটা বিরক্তই হচ্ছি বটে, তাতে কি আর? মাঝির যদি কিছুটা ঘটে। ঘাট ধরার দায়ে আমার ভাগ্যে কিছুটা কম পড়ে যাচ্ছিল। কম পড়ে পাড়ে থাকা কাশ গুলোর চিরল পাতা যেনো মহারানীর গোছালো কেশ। দোল খাচ্ছে দখিনা বায়।বড়ই আক্রশন করছে আমাকে, আমার মনকে। ফিরে ফিরে দেখি বারে বারে।তাদের কেশের বাহার।

পরক্ষণে বিরক্তের ভাব নিয়েই তাকালাম চিত্রে,
একি? এতো একাই একঝাঁক মুগ্ধতা। চোখ ফেরেনা ফিরে আসার মুগ্ধতায়।
কেউ একজন সকলের মিশ্রিত পায়ে, মৃদু হেসে। এলো কেশে বয়স পাঁকা লোকের পিছিনে হেটে। আসছে নিজের চাওয়া গুলোকে নিজের হাতে নিয়ে। আমি নজরুল হলে আমার বাঁশিতে বাজতো মায়া বাঁশীর মায়া সুর।

আমাকে ডেকে ফিরে পাচ্ছে না কাশের কেশ,মাছরাঙার দল, উতলা ঢেউ, পোলাপানের ঝাঁকে ঝাঁকে সাতার কাটার মতো সৌন্দর্য।
আমি শুধু তার সৌন্দর্যে সায় দিচ্ছি।কিন্তু সে আমায় ডাকে না রূপের ইশারায়।
বৃষ্টি ভান করে মান ধরেছে। মেঘের দল উঁকি দিচ্ছে। দুঃখিত ভাবে কথা বলছে আমার সাথে। বারে বারে বলছে, ভেসে যাইনা কিছুটা দুঃখের জলে।
মৃদু হেসে বলি, থাকনা, তবুও সে আমার চোখের গল্পে আছে।
মেঘদলপতিও মুচকি মুচকি হেসে বলছে, “হে প্রেমিক পুরুষ লজ্জিত কেনো? এসোনা চলে এক ফোসলা বৃষ্টির টানে দু’জনে খুব কাছাকাছি।

দুষ্টু বৃষ্টি আসতে আর দেরি হলো না। জলদি চলে এলাম ছইয়ের (ছাউনির) নিচে।
খুব কাছাকাছি, নিশ্বাসের শব্দ আসে মাতাল বাঁশির সুরে। চোখে চোখ, লাজুক চাহুনি, অগোছালো যৌবন। নিজেকে অপরাধী বোধ করে চোখ সরিয়ে নিলাম উতলা নদীর পানে।উতালপাতাল বয়ে যাচ্ছে,ফেটে যাচ্ছে পিঞ্জর। ঠোঁটের আগায় হাসির চিহ্ন, চোখে লাজের ক্লান্ত রেশ। কপালে অন্য রকম ভাঁজ। অন্য ইশারা দিচ্ছে আবার তা ফিরিয়েও নিচ্ছে । তাহার চলন ভঙ্গি আমি আমার নিজেকে আমি প্রেমিক ভেবে যাই আবার অপরাধীও ভাবি।

” এই যা তুমি আর হাসার সময় পেলে না?
উত্তরে রবির আলো বলে উঠলো, আর কতো? বেশত হলো। এবার নাহয় দূরত্ব বজায় রাখ?

কস্মিনকালেও কি এদূরত্ব শেষ হবে? দূরত্ব যেনো হাতে নাটাই রেখে সুতো কাটা ঘুড়ির মতো….

সে পাড়ে দাঁড়িয়ে দু’জন দুজনের পানে শেষ চাহুনি তৃষ্ণার….
সে কি চেয়েছিল তার প্রেমিক হতে? নাকি ক্রুব্ধ দৃষ্টি দিলো…? যা তার ঠোঁটের আগায় বলি বলি বলে , নাবলেই ইতি।

Post Author: admin

30 thoughts on “না বলেই ইতি(রোমান্টিক গল্প)মোঃ আরমান হোসেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *